প্রথমবারের মতো উড়ল বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারিচালিত উড়োজাহাজ
বিমান চলাচলের ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো আকাশে উড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যাটারি-ইলেকট্রিক উড়োজাহাজ। Heart Aerospace-এর তৈরি X1 নামের এই পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ ব্যাটারির শক্তিতে উড়েছে।
গত ১২ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্ল্যাটসবর্গ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে X1-এর প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন হয়। উড্ডয়নটি স্থায়ী হয় ২৭ মিনিট। এ সময় উড়োজাহাজটি ভূমি থেকে প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুট উচ্চতায় ওঠে।
কত বড় এই বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ?
X1-এর ডানার বিস্তার প্রায় ১০৬ ফুট। নাক থেকে লেজ পর্যন্ত এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ ফুট এবং উড্ডয়নের সময় এর ওজন ছিল ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উড়োজাহাজটির প্রপালশন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যাটারি-ইলেকট্রিক। পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে এর বৈদ্যুতিক প্রপালশন সিস্টেম এক মেগাওয়াটের বেশি শক্তি সরবরাহ করেছে।
২৭ মিনিটের ফ্লাইটে খরচ মাত্র ৫ ডলার!
প্রথম উড্ডয়নের আরেকটি চমকপ্রদ তথ্য সামনে এসেছে। Heart Aerospace-এর হিসাবে, পুরো ২৭ মিনিটের পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে X1-এর জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুতের খরচ ছিল আনুমানিক ৫ মার্কিন ডলার।
অবশ্য এটি ছিল পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন; এতে কোনো যাত্রী ছিলেন না। একজন পাইলট উড়োজাহাজটি পরিচালনা করেন। পরীক্ষায় ট্যাক্সি, উড্ডয়ন, ওপরে ওঠা, বিভিন্ন কৌশলগত মুভমেন্ট এবং অবতরণের ধাপ সম্পন্ন করা হয়।
ভবিষ্যতের যাত্রীবাহী বৈদ্যুতিক বিমানের প্রস্তুতি
X1 মূলত একটি পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ। এর মাধ্যমে Heart Aerospace ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজ তৈরির প্রযুক্তি পরীক্ষা করছে।
কোম্পানিটি একই প্রযুক্তির ভিত্তিতে ES-30 নামে ৩০ আসনের একটি হাইব্রিড-ইলেকট্রিক আঞ্চলিক উড়োজাহাজ তৈরির কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ES-30-এর ফ্লাইট টেস্ট ২০২৮ সালে শুরু হওয়ার কথা এবং বাণিজ্যিক সেবায় প্রবেশের লক্ষ্য ২০৩১ সাল।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উড্ডয়ন?
বিমান পরিবহনে জ্বালানি খরচ একটি বড় বিষয়। প্রচলিত উড়োজাহাজে জেট ফুয়েলের পরিবর্তে ব্যাটারি ও বৈদ্যুতিক প্রপালশন ব্যবহারের সম্ভাবনা তাই দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণার বিষয়।
X1-এর সফল উড্ডয়ন দেখিয়েছে যে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের একটি উড়োজাহাজকে ব্যাটারির শক্তিতে আকাশে তোলা সম্ভব। তবে যাত্রী পরিবহনের জন্য এ ধরনের প্রযুক্তিকে আরও অনেক পরীক্ষা, উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ
Heart Aerospace-এর লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে কম খরচে এবং তুলনামূলক কম পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আঞ্চলিক বিমান চলাচল চালু করা। X1-এর পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সেই লক্ষ্য পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ব যখন জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প খুঁজছে, তখন আকাশপথে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির এই অগ্রগতি বিমান শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
তবে পুরোপুরি ব্যাটারি-চালিত বড় যাত্রীবাহী বিমান নিয়মিত বাণিজ্যিক সেবায় কবে আসবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। X1-এর পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র: Heart Aerospace ও বিমান চলাচলবিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।
Comments
Post a Comment