ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ‘এল নিনো’, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি। আবহাওয়া ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালের শেষভাগে একটি খুব শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব ২০২৭ সালের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (NOAA) সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে খুব শক্তিশালী El Niño হওয়ার সম্ভাবনা ৮১ শতাংশের বেশি। আগস্টের আরও সাম্প্রতিক মূল্যায়নে NOAA জানিয়েছে, এই সম্ভাবনা ৯০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে।
‘এল নিনো’ কী?
El Niño হলো প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জলবায়ু ঘটনা। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরন বদলে যেতে পারে।
ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে একই সময়ে ভিন্ন ধরনের আবহাওয়া দেখা দিতে পারে—কোথাও অতিরিক্ত বৃষ্টি, আবার কোথাও খরা ও তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
২০২৭ সালে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে?
শক্তিশালী El Niño হলে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক প্রবণতায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এর প্রভাব সব দেশে বা সব অঞ্চলে একই রকম হবে না—এ বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার অন্য অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহের প্রবণতাও বাড়তে পারে।
রেকর্ড ভাঙার মতো El Niño হতে পারে?
NOAA-এর আগস্ট ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ঐতিহাসিকভাবে খুব শক্তিশালী El Niño হওয়ার সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ, যদি Niño-3.4 অঞ্চলের তিন মাসের গড় তাপমাত্রা বিচ্যুতি +২.৫°C বা তার বেশি হয়। এমন মাত্রার ঘটনা ১৯৫০ সালের পরের বড় El Niño ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম হতে পারে।
তবে এটিকে এখনই নিশ্চিতভাবে “ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ El Niño” বলা ঠিক হবে না। জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে অনিশ্চয়তা থাকে এবং পরিস্থিতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় কী হবে?
El Niño-এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে একরকম নয়। তাই শুধু El Niño-এর পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ২০২৭ সালে ঠিক কী ধরনের আবহাওয়া হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
তবে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সাধারণত মনে করেন, শক্তিশালী El Niño হলে দক্ষিণ এশিয়ার বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা ও মৌসুমি আবহাওয়ার ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ফলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের ওপরও এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আগাম প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে নজর থাকবে ২০২৬ সালের শেষভাগে
বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী El Niño ২০২৬ সালের শেষভাগে আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত টিকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। NOAA-এর হিসাবে, ২০২৭ সালের বসন্তের শুরু পর্যন্ত El Niño থাকার সম্ভাবনাও খুব বেশি।
তাই এখনই আতঙ্কিত হওয়ার চেয়ে আবহাওয়ার সরকারি পূর্বাভাস ও বিশেষজ্ঞদের আপডেট নিয়মিত অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
শিরোনামের বিকল্প:
👉 “সুপার এল নিনোর শঙ্কা, ২০২৭ সালে বদলে যেতে পারে বিশ্বের আবহাওয়ার চিত্র!”
Comments
Post a Comment